নির্দেশনা
সাব একিউট থাইরয়ডাইটিসে অস্থায়ী হাইপোথাইরয়ডিজমে ব্যাতীত অন্যান্য হাইপোথাইরয়ডিজমে রিপ্লেসমেন্ট থেরাপী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গলগন্ড, নডিউলের উপস্থিতিতে এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের রেডিওলজিকাল এবং/অথবা সার্জিক্যাল চিকিৎসার পর থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (টিএসএইচ) স্তরের দমনের জন্য ব্যবহৃত হয়। লিথিয়ামের মতো অন্যান্য ওষুধের গলগন্ডজনিত প্রভাবগুলোকে দমন করার জন্য ব্যবহৃত হয়। সাপ্রেশন পরীক্ষায় ডায়াগনষ্টিক এইড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপাদান
ফার্মাকোলজি
এতে আছে কৃত্রিম লিভোথাইরক্সিন (থাইরক্সিন বা টি ৪ - ও বলা হয়) যা প্রাকৃতিক হরমোন টি 8 এর অনুরূপ, থাইরয়েড গ্রন্থিতে তৈরি হয়। পেরিফেরাল টিস্যুতে প্রায় ৩০% টি অধিকতর কার্যকারী টি 8 মেটাবোলাইট ট্রাইআয়োডো থাইরনিনে (টি 8 ) পরিবর্তিত হয়। TBG (থাইরক্সিন বাইন্ডিং গ্লোবিউলিন) টি 8 এর প্রধান বাহক। এই বন্ধন টি 8 - কে বিপাক ও রেচন থেকে রক্ষা করে ফলে রক্তে এর অর্ধায়ু বৃদ্ধি পায়। মোট টি 8 - এর শুধুমাত্র ০.০৩% রক্তে মুক্ত অবস্থায় থাকে। টি 8 - এর রেচনের অর্ধায়ু ৬-৭ দিন। হাইপার থাইরয়ডিজমে এই অর্ধায়ু কমে ৩-৪ দিন হয়ে যায়, পক্ষান্তরে হাইপোথাইরয়েডিজমে এটি ৯-১০ দিনে হয়ে যায়। নেফ্রোসিস বা হেপাটিক সিরোসিসে যখন প্লাজমায় প্রোটিন এর পরিমান কমে যায় অথবা নির্দিষ্ট ওষুধ দ্বারা প্রোটিন এর সাথে বন্ধন বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন টি 8 এর অর্ধায়ু কমে যায়। থাইরয়েড হরমোন ভাঙনের প্রধান স্থান হল যকৃত। টি 8 - এর গ্লুকুরনিক ও সালফেটের সাথে সংশ্লেষিত হয়ে ফেনোলিক হাইড্রক্সিল গ্রুপ এর মাধ্যমে প্রস্রাবে নিঃসৃত হয়। থাইরয়েড হরমোন গুলোর একটি এন্টারোহেপাটিক সংবহন রয়েছে, যেহেতু অন্ত্রের হাইড্রোলাইসিস দ্বারা বিমুক্ত হয়ে পুনরায় শোষিত হয়। টি 8 - এর দীর্ঘ অর্ধায়ুর কারণে লিভোথাইরক্সিন এর দৈনিক একটি ডোজ থেকে জৈবিকভাবে অধিক সক্রিয় টি 8 - এর অবিচল রক্তের স্তর পাওয়া যায়। অতএব, একবার সঠিক মাত্রাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেরাপিউটিক ইফেক্ট পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে : প্রারম্ভিক মাত্রা : ২৫-৫০ মাইক্রোগ্রাম প্রতিদিন। ৬-৮ সপ্তাহের ব্যবধানে ধাপে ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী মাত্রা বাড়াতে হবে। প্রাইমারী হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগী ইউথাইরয়েড অবস্থায় আসা পর্যন্ত এবং রক্তে টিএএসএইচ এর পরিমান স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত লিভোথাইরক্সিন সোডিয়ামের মাত্র ১২.৫-২৫ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত বাড়ানো যায়। মারাত্মক হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীর ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক মাত্রা : ১২.৫-২৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতিদিন। রক্তে টিএসএইচ এর পরিমান স্বাভাবিক হওয়া পযন্ত প্রতি ২-৪ সপ্তাহ পর পর দৈনিক ২৫ মাইক্রোগ্রাম হারে মাত্রা বাড়াতে হবে। সেকেন্ডারী (পিটুইটারী) অথবা টারসিয়ারী (হাইপোথ্যালাাামিক) হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে : রোগী ইউথাইরয়েড অবস্থায় আসা পর্যন্ত এবং রক্তে ফ্রি টি ৪ - এর পরিমান পূর্বের স্বাভাবিক সীমায় আনা পর্যন্ত লিভোথাইরক্সিন সোডিয়ামের মাত্রা সমন্বয় করতে হবে। ৫০ বছরের অধিক বয়স্ক রোগী অথবা হৃদরোগীর ক্ষেত্রে : দৈনিক ১.৭ মাইক্রোগ্রাম প্রতি কেজি ওজন হিসেবে। শিশুদের ক্ষেত্রে (নবজাতক) : অনুমোদিত প্রারম্ভিক মাত্রা দৈনিক ১০-১৫ মাইক্রোগ্রাম প্রতি কেজি হিসেবে। কার্ডিয়াক ফেইলরের ঝুঁকি আছে এমন শিশুর ক্ষেত্রে কম মাত্রায় ওষুধ শুরু করতে হবে। চিকিৎসা এবং ল্যাবরেটরী পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তীতে ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে মাত্রা বাড়াতে হবে। রক্তে টি ৪ এর ঘনত্ব খুব কম (<৫ মাইক্রোগ্রাম/ডেসিলিটার) বা নিরুপনের অযোগ্য হলে লিভোথাইরক্সিনের প্রারম্ভিক মাত্রা হবে দৈনিক ৫০ মাইক্রোগ্রাম। সাধারণভাবে শিশুদের ক্ষেত্রে : দীর্ঘস্থায়ী বা মারাত্মক হাইপোথাইরয়েডিজমের শিশুদের জন্য প্রারম্ভিক মাত্রা দৈনিক ২৫ মাইক্রোগ্রাম। প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি ২-৪ সপ্তাহ পরপর ২৫ মাইক্রোগ্রাম হারে বাড়াতে হবে। বড় শিশুদের হাইপারএ্যাকটিভিটির উপসর্গ কমানোর জন্য স্বাভাবিক মাত্রার এক চতুর্থাংশ হিসেবে শুরু করতে হবে। পরবর্তীতে স্বাভাবিক পূর্ণ মাত্রা আসা পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে স্বাভাবিক মাত্রার এক চতুর্থাংশ হিসেবে মাত্রা বাড়াতে হবে। প্রতি কেজি ওজন হিসেবে দৈনিক মাত্রা- ০-৩ মাস: দৈনিক ১০-১৫ মাইক্রোগ্রাম/কেজি ৩-৬ মাস: দৈনিক ৮-১০ মাইক্রেগ্রাম/কেজি ৬-১২ মাস: দৈনিক ৬-৮ মাইক্রোগ্রাম/কেজি ১-৫ বছর: দৈনিক ৫-৬ মাইক্রোগ্রাম/কেজি ৬-১২ বছর: দৈনিক ৪-৫ মাইক্রোগ্রাম/কেজি >১২ বছর কিন্তু অসম্পুর্ন বৃদ্ধি ও বয়ঃসন্ধি: দৈনিক ২-৩ মাইক্রোগ্রাম/কেজি পরিপূর্ণ বৃদ্ধি ও বয়সন্ধি: দৈনিক ১.৭ মাইক্রোগ্রাম/ কেজি রোগীর শারীরিক অবস্থা ও ল্যাবরেটরী পরীক্ষার পরিমাপ অনুযায়ী মাত্রা সমন্বয় করতে হবে।
প্রতিনির্দেশনা
যেকোন ধরনের সাবক্লিনিক্যাল বা ওভার্ট থাইরোটক্সিকোসিসের চিকিৎসা করা না হলে একিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন অসংশোধিত এড্রেনাল ফেইলিওর
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহারজনিত হাইপারথাইরয়েডিজমই মূলতঃ লিভোথাইরক্সিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। সেক্ষেত্রে নিম্নলিখিত উপসর্গসমূহ দেখা দেয়- সাধারণ উপসর্গ : ক্লান্তি, ক্ষুধা বৃদ্ধি, ওজনহানি, তাপ অসহনীয়তা, অতিরিক্ত আবেগ, নিদ্রাহীনতা। পেশী ও কঙ্কালতন্ত্র : কাঁপুনী, পেশার দুর্বলতা। রক্ত সংবহনতন্ত্র : বুক ধরফর করা, ট্যাকিকার্ডিয়া, এ্যারিদমিয়া, নাড়ির স্পন্দন এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি শ্বসনতন্ত্র : শ্বাসকষ্ট পরিপাকতন্ত্র : পাতলা পায়খানা, বমি, পেটব্যাথা ত্বক : চুলপড়া, ত্বক লালচে হওয়া
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার ক্যাটাগরি এ। গর্ভাবস্থায় শরীরে লিভোথাইরক্সিনের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। মাতৃদুগ্ধে খুব সামান্য পরিমান থাইরয়েড হরমোন নিঃসরিত হয় যা শিশুর ওপর তেমন কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। তথাপি স্তন্যদানকারী মায়ের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন প্রয়োজন।
সতর্কতা
যেসব রোগীদের পিটুইটারি গ্রন্থির ক্রিয়া হ্রাসের কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম হয়েছে, তাদের এড্রেনোকর্টিকাল ইনসাফিসিয়েন্সিও থাকতে পারে। লিভোথাইরক্সিন থেরাপি শুরু করার পূর্বে, একিউট এড্রেনাল ইনসাফিসিয়েন্সি প্রতিরোধ করার জন্য পর্যাপ্ত কর্টিকোস্টেরয়েড রিপ্লেসমেন্টের মাধ্যমে এর চিকিত্সা করা উচিত। হৃদরোগী এবং/অথবা গুরুতর ও দীর্ঘ-বিদ্যমান হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক মাত্রা বাছাই ও মাত্রার যে কোন বৃদ্ধি যত্নসহকারে করা উচিত। অতিরিক্ত প্রাথমিক মাত্রা বা খুব দ্রুত মাত্রা বৃদ্ধি করলে এনজাইনা বৃদ্ধি বা অবনতির অভিযোগ, এরিদমিয়া, মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশান, কার্ডিয়াক ফেইলিওর বা হঠাৎ রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষত বয়স্ক রোগীদের মধ্যে টি ৪ - দিয়ে চিকিৎসার সময় শারীরিক ওজনের কোনও লক্ষ্যনীয় পরীবর্তন হলে মাত্রার সমন্বয় প্রয়োজন। রক্তে টি ৩ - এবং টি ৪ এর মাত্রা পর্যবেক্ষণের সময় এটি মনে রাখা উচিত যে টি ৩ - এর একটি সাধারণ স্তর অর্জনের জন্য একটি উচ্চ মাভাবিক হতে সামান্য বর্ধমান টি ৪ - এর স্তর প্রয়োজন হবে। প্রাথমিক হাইপোথাইরয়েডিজমে লিভোথাইরক্সিন এর সঠিক ডোজটি সাধারণত রক্তে টিএসএইচ এর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিষ্ঠিত করা উচিত এটি স্বাভাবিক হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য কারণ থাইরয়েড প্রিপারেশন দ্বারা বিষক্রিয়া হলে মারাত্নক পরিণতি হতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Thyroid drugs & hormone
সংরক্ষণ
৩০° সে এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শুষ্ক স্থানে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।